প্রতিষ্ঠাতার সংক্ষিপ্ত জীবনী


শ্রদ্ধেয় প্রয়াত সৈয়দ আশরাফউদ্দিন আহমাদ ১৯২১ সালের ১ ডিসেম্বর কুমিল্লা সদর, কোতয়ালী থানার অন্তর্গত লালবাগ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে (সৈয়দ বাড়ি) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ আব্দুল গনি একজন ধার্মিক, সমাজসেবক ও দানবীর হিসেবে সমাজে খ্যাত ছিলেন। মাতা বেগম এয়াকুতুন্নেসা ছিলেন ধার্মিক ও সুগৃহিণী। তাঁর পূর্ব পুরুষ সৈয়দ আকবর শাহ্ মক্কা থেকে ইসলাম ধর্ম প্রচারে ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত চাকলা রওশনাবাদ এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। যা বর্তমানে কুমিল্লা সদর কোতয়ালি থানার (বর্তমানে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা) লালবাগ গ্রাম নামে পরিচিত। তিনি ১৯৪১ সালে বিএ পাশ করেন এবং ওই বছরেই সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। ওই সালেই তিনি চাঁদপুর জেলার মৈশাদি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মরহুম সালামত উল্লাহ পাটওয়ারীর জ্যেষ্ঠ কন্যা দানবীর, সমাজসেবিকা ও ধার্মিক মরহুমা বেগম রওশন আক্তার এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি সাত পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৭৩ সালে তার নিজ গ্রামের মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যা বেগম রওশন আশরাফ উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি তাঁর গ্রামে একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানাও প্রতিষ্ঠা করেন যা ‘লালবাগ দারুসসুন্নাত মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ নামে বিদ্যমান। বর্তমানে তাঁরই সুযোগ্য সন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাবেক ভিপি (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), যুবলীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আহমাদ ফারুখ গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে স্কুলটি পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সৈয়দ আহমাদ বাকের কুমিল্লার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক, সমাজসেবক ও সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন। তৃতীয় পুত্র সৈয়দ আহমাদ তা‌রেক একাধারে চিত্রশিল্পী, কবি ও গল্পকার এবং কুমিল্লার শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ক‌য়েক বছর আগে কুমিল্লা সংস্কৃতি সংসদ তাকে ‘কবিতার সুলতান’ হিসেবে সম্মাননা প্রদান করেন। চতুর্থ সন্তান সৈয়দ আহমাদ মুনির একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস শিল্পের পথিকৃৎ দি গ্রেট বাংলাদেশ টি শার্ট কোম্পানি ও থাই বাংলা ইম্পেরিয়াল কোম্পানির কর্ণধার। পঞ্চম সন্তান মরহুমা সৈয়দা সোহানা সুলতানা ছিলেন এডভোকেট ও চান্দিনা রেদয়ান আহমেদ কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপিকা। ষষ্ঠ সন্তান সৈয়দ আহমাদ মাসুম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংগঠক। কুমিল্লা ফোকাস নামের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। সপ্তম সন্তান সৈয়দ আহমাদ তওফিক রাশিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে নিজস্ব ব্যবসায় জড়িত। অষ্টম সন্তান সৈয়দ আহমাদ সাবের একজন ভাস্কর, নাট্যকর্মী।

১৯৯৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মহৎ প্রাণ, সমাজ‌সেবী সৈয়দ আশরাফউ‌দ্দিন আহমাদ মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁরই প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

Scroll to Top